ব্রেকিং:
১২সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটনস্পট নিলগিরি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে কর্তৃপক্ষ। প্রতিশ্রুতি পূরণে আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়িত্বশীল হতে হবে:শেখ হাসিনা শেখ হাসিনার সরকার মানুষকে শুধু স্বপ্ন দেখায় না,স্বপ্নকে বাস্তবায়ন:বীর বাহাদুর ইউএনও ওয়াহিদার সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আগস্টেও চমক রপ্তানি আয়ে ২০ পণ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সমন্বিতভাবে কাজ করায় এ বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে : এলজিআরডি মন্ত্রী করোনার প্রভাবে দেশে খাদ্য সংকট হবে না : কৃষিমন্ত্রী সব ভূমিসেবা এক ছাদের নিচে আসছে শহরেও বাড়ছে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার করোনার মধ্যেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবো :অর্থমন্ত্রী সৌদিতে প্রবেশের অনুমতি পেল বাংলাদেশসহ ২৫ দেশ অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে: কাদের হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে : নৌ প্রতিমন্ত্রী চীনের চেয়েও বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড গতিশীল! বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্কে আসছে সাগরে মাছ
  • শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭

  • || ১৪ রজব ১৪৪২

দৈনিক বান্দরবান
সর্বশেষ:
১৭০ বছর পরে ফিরে আসলো বাঙ্গালীর সোনালী ঐতিহ্য মসলিন সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের স্বীকৃতি দিন: এলজিআরডিমন্ত্রী করোনা ভাইরাস:ভ্যাকসিন কিনতে রবিবার সেরাম ইন্সটিটিউটের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম টাকা জমা করবে বাংলাদেশ পদ্মা সেতুতে হবে চারটি স্মৃতিস্তম্ভ ইউনূসহীন গ্রামীণ ব্যাংক কেমন করছে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় হচ্ছে স্মাট ভিলেজ বান্দরবানের রোগীদের জন্য হ্যালো ছাত্রলীগ এ্যাম্বুলেন্স সেবা শুরু বান্দরবানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরন শুরু করোনা সঙ্কট কাটিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের আশা নৌপথে জাপান থেকে দিয়াবাড়ী আসবে মেট্রোরেল চলতি মাসেই আসতে পারে করোনা ভ্যাকসিন

বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন,সেধে কেউ কিছু দেয়নি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দৈনিক বান্দরবান

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

ভাষার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা কথাটি পুনরায় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাসের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাষার অধিকার এবং স্বাধীনতাসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে। বহুমূল্যেই বাঙালিকে সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছুই দেয়নি। শনিবার সকালে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবল ভাষাভিত্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। একুশে পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে অমর ভাষা দিবসের যে স্বীকৃতি আপনারা পেয়েছেন তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের কাছ থেকে আগামী প্রজন্ম অনেক শিক্ষা নিতে পারবে। দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতিচর্চা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্য এ সম্মাননা। এজন্য আমি মনে করি এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মাননা। দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা।’

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২১ জন বিজয়ী বরেণ্য ব্যক্তির হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক একুশে পদক তুলে দেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, লেখকসহ বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, রক্ত দিয়ে যারা শুধু মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, স্বাধীনতা অর্জনের পথও করে দিয়েছিলেন আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাই। আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের দেশ। এ বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সঙ্গে চলবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলব। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক ভাষাসৈনিক সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বারবার কারাবরণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনকে জাতীয় আন্দোলনে রূপদান করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী সফরসূচি তৈরি করে ব্যাপক প্রচারে অংশ নেন এবং সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত ছিল। শেখ মুজিবের পরামর্শ ও নির্দেশ অনুযায়ী ওইদিন সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। অমর একুশে ফেব্রুয়ারির কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করে এবং পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে কতগুলো তাজা প্রাণ নিমেষেই ঝরে যায়। এতে অনেকে আহত হন, অনেকে গ্রেফতার হন। অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সরকার এবং কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিক এবং সালামের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এবার একুশে পদকের জন্য ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে মনোনীত করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। এ বছর ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে তিনজন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিনজন, শিল্পকলায় সাতজন, ভাষা ও সাহিত্যে তিনজন, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে একজন করে মোট ২১ জনকে একুশে পদক দেওয়া হয়। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য এবার মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক, অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদ। শিল্পকলায় কণ্ঠশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি) ও পাভেল রহমান (আলোকচিত্র) পদক পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর)। এছাড়া সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, গবেষণায় অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় বেগম মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মীর্জা আবদুল জলিল, সমাজসেবায় প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান, ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ পদক পেয়েছেন।

মরণোত্তর পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা পদক গ্রহণ করেন। মরহুম জননেতা শামসুল হকের পক্ষে তার ছেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্র্রী শরীফ আহমেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলার (মরণোত্তর) পক্ষে তার ছেলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার পদক গ্রহণ করেন। অন্যদিকে গোলাম মুরশিদের পদক গ্রহণ করেন তার এক ছাত্র। অন্য পদক বিজয়ীরা নিজ হাতে পদক গ্র্রহণ করেন।

পুরস্কার হিসাবে স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং চার লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। এবারের ২১ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৫২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। আর ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করা হয়।

দৈনিক বান্দরবান
দৈনিক বান্দরবান